Sunday , 24 September 2017

Home » ভ্রমণ » বাংলাদেশের ভূস্বর্গ সাজেক ভ্যালি ট্যুর
বাংলাদেশের ভূস্বর্গ সাজেক ভ্যালি ট্যুর

বাংলাদেশের ভূস্বর্গ সাজেক ভ্যালি ট্যুর

May 28, 2015 2:34 am by: Category: ভ্রমণ Leave a comment A+ / A-

Newspaper Hosting

ভ্রমণ ডেস্ক॥ ১১ তারিখ শুক্র বার চলে গেছি কাপ্তাই ওখানের এক বন্ধুকে নিয়ে। কবির ভাই। সে তখন চিটাগং ছিলো। ওখান থেকে ঠিক হলো সেদিন কাপ্তাই ঘুরে দেখে পরদিন চলে যাবো সাজেক।

প্রথমে চলে গেলাম কাপ্তাই বিদ্যুৎ কেন্দ্রে। অনুমতি বেবস্তা করলো মামুন ভাই, যিনি ওখানের কর্মকর্তা এবং আমাদের বন্ধু।

খুব কাছে থেকে দেখলাম। এর পর নদী পার হয়ে গেলাম একটা মারমা পাড়াতে। দারুন লাগলো।

পরদিন সকাল রওনা দেবো সাজেক।

সন্ধ্যায় আড্ডা তে আরো একজন বাইকার পেয়ে গেলাম। সে ও ই ঘুরে বেড়ায় যখন তখন। তো ২ টা বাইকে আমরা চার জন। সবাই রাতে একসাথে থাকলাম রিটু ভাইয়ের বাসায়। সকালে ৭ টার দিকে রওনা দিলাম।

১৭০ কিলো এর জার্নি।

সাজেক

কাপ্তাই থেকে চলে গেলাম রাঙ্গামাটি একটা ভেতরের দারুন একটা পথ ধরে। এই পথের কিছু ছবি আমি কিছু দিন আগেই আমি আপলোড করেছিলাম। ২১ কিলো।

সাজেক

এখানে নাস্তা করে নিলাম।  এর পর ওখানে থেকে মহল ছড়া হয়ে খাগড়াছড়ি –  এই পথে টাও দারুন। প্রায় ৮০ তে টেনেছিলাম। পথ টাও আদি বাসি দের পাড়া গুলোর ভেতর দিয়ে গেছে। পৌঁছে গেলাম খাগড়াছড়ি। ওখান থেকে চলে গেলাম দিঘিনালা। এই পথ টাও দারুন। এখানে আমি বাইক বালু তে স্লিপ কেটে এক্সিডেন্ট করলাম। হাত মোটামুটি ছুলে গেলো। অন্য বাইক থেকে রিটু ভাই গাছের বানর বা কি একটা দেখাচ্ছিলেন, ওটা দেখতে গিয়ে সামনের বাঁকে বালুতে স্লিপ করলো বাইক। গতি অবশ্য কম ই ছিলো। বাঁকে খুব ই সতর্ক থাকবেন। আর আমি এখন থেকে ঠিক করেছি গার্ড (হাতে, পায়ে) ব্যাবহার করবো লং জার্নির জন্য।

সাজেক
ক্লাসিক টি স্টল এ বিরতি- বলা বাহুল্য, নাম আমাদের ই দেয়া

বান্দরবনের নীলগিরি, বা রাঙ্গামাটি- খাগড়াছড়ি- এই পার্বত্য এলাকা গুলোতে গিয়েছি।  এই সব এলাকার আঁকা বাকা উঁচু নিচু পথে চালানো রিস্ক আছে। কিন্তু সাজেক যাওয়ার হিসেব অনেক আলাদা। এই পথের সৌন্দর্য এবং দুরহতার সাথে অন্য গুলোর এমনকি তুলনাও হয়না। প্রায় খাড়া পাহাড়ের ভেতর পথ উঠে গেছে, আবার নেমে গেছে। ভীষণ রকম আঁকা বাকা।  ব্রেক চাপলেও চাকা পিছলে নেমে যেতে চায়। অনেক বারই বেচে গেছি।  কিছু ছবি এখানে দিলাম একটি ভিডিও থেকে নিয়ে। তবে মুল পথের ছবি পরে দিতে পারবো। এই ছবি গুলো দেখে কিছু টা অনুমান করা যাবে হয়ত।

সাজেক

যাওয়ার পথে পাহাড়ের বাঁকে মটর সাইকেল এক্সিডেন্ট করে হাত অনেক টুকু ছিলে যায়। পায়েও ব্যাথা পাই কিছু। তবুও ওই অবস্থায় চলে যাই। আর নিজেকেই চালিয়ে ফিরতে হয়েছিলো তীব্র বেথা নিয়ে। ব্যাপারটা কঠিন ছিলো। When you play with big toys, sometimes you gotta hurt!

যাই হোক, দীঘিনালায় ফার্মেসি থেকে ফার্স্ট এইড দিয়ে একটু বিরতি দিয়ে আমাদের গন্তব্য সাজকের দিকে রওনা হলাম। সাজেকের পথে প্রথম পড়লো বাঘাইহাট। এখানে লাঞ্চ করে নিলাম। বন্ধু হোটেল এর পাশের হোটেল টি। অসাধারন রান্না। পরে যাত্রা শুরু। একটু এগোতেই রোড দেখে আমাদের মাথা খারাপের জোগাড়। এত দারুন!! সরু পিচ ঢালা রোড এর ২ পাশেই ঘন ঝোপ,  গাঢ সবুজ গাছপালা, বাশের ঝাড় আর মাঝে মাঝে ঝর্না।

সাজেক

যাওয়ার পথে মোট ২ টা ঝর্না পেলাম। হারাছড়ী ও আরেকটা কি যেন। ঠিক করলাম যাওয়ার পথে দেখবো। পুরা পথ ই মাতোয়ারা করে রাখলো আমাদের। আর দুরে দেখতে পাচ্ছিলাম ভারতের মিজোরামের ঘন উঁচু পাহাড়ের সারি, পাহাড় যেন মিতালি করেছে আকাশের সাথে।

সাজেক

রাস্তার ধারে মাঝেমধ্যে পাহাড়িদের বাড়ি পড়ছে। মাটি থেকে বেশ কিছুটা উপরে বাঁশের মাচা এবং তার উপরে টিন বা খড়ের ছাউনির বড় ঘর। ভিতরে বেড়া দিয়ে ২/৩টি আলাদা কক্ষ বানানো হয়েছে। এদের পোশাক-পাতিতে রয়েছে নিজস্ব বৈশিষ্ট্য, যা দেখে অনভ্যস্ত চোখে একটুখানি অস্বস্তি লাগা অসম্ভব নয়।

সাজেক
প্রায় এসে গেছি
সাজেক
দুরে ভারতের মিজোরাম রাজ্যর পাহাড়

এবার আরো কিছু দুর গিয়ে আবার মাথা খারাপ হলো – অন্যভাবে। পাহাড়ের গা বেয়ে খাড়া পথ উঠে গেছে অনেক দুর একে বেকে। উঠতে খবর হয়ে গেলো। আবার অত্তন্ত্য ঢালু পথ বেয়ে আবার নিচে নামা – এমন ই চলতে লাগলো। কি ভয়ং কর পথ রে বাবা। এমন খাড়া হয়ে নামে যে ব্রেক ধরলেও বাইক পিছলে নামতে থাকে। এক বার ফসকালেই শেষ।

সাজেক

মাঝে মাঝে পড়ছিলো উপ জাতিদের গ্রাম, পাড়া। জায়গা গুলোর নাম হলো, মাসালং, ৭ কিলো, ৮ কিলো, ৯ কিলো ইত্যাদি।

অবশেষে সাজেক পৌঁছে গেলাম। এখানেই সেনা বাহিনীর শেষ কেম্প। পৌঁছে আমাদের মাথা খারাপ হয়ে গেলো চার পাসের দুর দুরের দ্রশ্য দেখে। ওখানে হেলীপেড এ উঠে সবাই যেন নাচতে লাগলো। এত সুন্দর। ঠিক ছবির মত। মন বার বার হারাতে লাগলো। অনেকক্ষণ ছবি তুললাম। মজা করলাম।

সাজেক

 

সাজেক

সাজেক আর্মি ক্যাম্প হতে আরও তিন কিঃমিঃ কাঁচা রাস্তা পেড়িয়ে কংলাক পাহাড়। কংলাক পাহাড়ের নিচ পর্যন্ত চাঁদের গাড়ী চলাচল করে। তারপর খাড়া পাহাড় বেয়ে অনেকখানি উঠতে হবে হেঁটে। পাহাড়ের মাথায় বড় একটা পাথরের চাট্টান পেরিয়েই কংলাক পাড়া – ছবির মত সুন্দর একটি আদিবাসী গ্রাম !

কমলক পাড়ায় গেলে ভিরমি খেতে হবে। তরুনীরা অনেক আধুনিক।  টি সার্ট, জিন্স, কেডস – অথচ যাচ্ছে হয়তো পাহাড়ে কাজ করতে। ঘরে গিয়ে অবাক হয়ে যাবেন। কি নেই। রঙিন টিভি, ডিভিডি প্লেয়ার, মিউজিক সিস্টেম, গিটার আরো কত কি। বাপরে। তাদের ডিশ এন্টেনাও রয়েছে। এগুলো চালানো হয় সৌর বিদ্যুতে। ডিস্কগুলো ইংরেজি ও হিন্দি ভাষার। পরিবারটি পাংখো। এরা পাহাড়ের উপর দিকে থাকতে পছন্দ করে।

সাজেক
(পাংখো মেয়ে)

রুইলুই এবং কংলাক থেকে ভারতের মিজোরাম রাজ্য বেশ কাছাকাছি, হাটার দুরত্ব প্রায় দুই ঘন্টার। এজন্য সেখানকার মানুষের জীবনযাত্রায়, পোষাক-পরিচ্ছদে আধুনিকতার ছাপ পড়েছে। মেয়েরা প্রায় সবাই পশ্চিমা স্টাইলে জিন্স প্যান্ট, গেন্জি বা টি-শার্ট পরিধান করে থাকে। তাদের প্রায় সবারই ছেলেমেয়েকে বাংলাদেশের কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে না দিয়ে মিজোরামের উন্নত এবং ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল-কলেজে পড়ালেখার জন্য পাঠায়। একারনে তাদের অনেকেই ইংরেজিতে কথা বলতে অভ্যস্ত। পাহাড়ী জীবনযাত্রায় তারাই সবচেয়ে উন্নত।

পরে ফেরার পথে, বাঘাই ছড়া তে থামলাম। এখানে একটা রেস্ট হাউজ পাওয়া গেলো কবির ভাইয়ের বাবার জন্য। তিনি IFIDC (বন শিল্প উন্নয়ন) আছেন। দারুন রেস্ট হাউজ টা। পুরোটাই বাশের। আর চার পাশের দৃশ্য অতি মনোরম।

আমরা ক্লান্ত ছিলাম। রেস্ট নিয়ে রাতে বের হয়ে খেলাম গপ গপ করে।

পরে ১৩ তারিখ ভোর বেলা রওনা দিলাম চিটাং এর উদ্দেশ্যে।

সত্যি, খুব ভীষণ ভালো লাগলো এমন একটা জায়গায় যেতে পেরে। বিশ্বাস হতে চায় না, আমাদের বাংলাদেশে এত সুন্দর সুন্দর জায়গা আছে, আছে পথ।

সময় নিয়ে ঘুরে আসুন। ভালো লাগবে।

ধন্যবাদ সবাইকে।

সাজেক
সাজেক হেলিপেড

সাজেক

 

(সংগৃহীত)

বাংলাদেশের ভূস্বর্গ সাজেক ভ্যালি ট্যুর Reviewed by on . ভ্রমণ ডেস্ক॥ ১১ তারিখ শুক্র বার চলে গেছি কাপ্তাই ওখানের এক বন্ধুকে নিয়ে। কবির ভাই। সে তখন চিটাগং ছিলো। ওখান থেকে ঠিক হলো সেদিন কাপ্তাই ঘুরে দেখে পরদিন চলে যাবো ভ্রমণ ডেস্ক॥ ১১ তারিখ শুক্র বার চলে গেছি কাপ্তাই ওখানের এক বন্ধুকে নিয়ে। কবির ভাই। সে তখন চিটাগং ছিলো। ওখান থেকে ঠিক হলো সেদিন কাপ্তাই ঘুরে দেখে পরদিন চলে যাবো Rating: 0

Ready Made Fashion & Clothing Website



Leave a Comment

*

Ready Made Online Newspaper Website
scroll to top

Facebook